যখন সময় পাবেন, তখন ধর্মগ্রন্থ কুরআন ও হাদিস অর্থসহ বুঝে-বুঝে পড়বেন।


না পড়ে, না জেনে দয়াকরে আন্দাজে কথা বলবেন না।

ধর্মগ্রন্থ নিজে পড়লে বুঝতে পারবেন – ধর্ম মানুষকে নৈতিক বানায় নাকি অনৈতিক বানায়।

যেকোনো সুস্থ, সভ্য, ভদ্র, মানবিক ও সুশিক্ষিত মানুষের আবশ্যিক শ্লোগান হওয়া উচিত –
“বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়।
আবেগের চেয়ে প্রমাণ বড়।”

শাস্তির ভয়ে, বা লোভে পড়ে, বা মানসিক সুখ ও শান্তির জন্য নিজের বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে চিন্তা-ভাবনা ছাড়া কোনো কিছু বলা বা করা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের কাজ নয়। একজন নেশাখোর নিজের মনের সুখ ও শান্তির জন্য নেশা করতে পারে, তাতে নেশা করাটা ভাল কাজ হয়ে যায় না। প্রমাণ ছাড়া আপনি অন্ধবিশ্বাস করতে পারলে; আমিও প্রমাণ ছাড়া অন্ধবিশ্বাস করতে পারি যে, আপনার জায়গা-জমি-ভিটে-বাড়ি এগুলো আমার। তাহলে, প্রমাণ ছাড়া আমার কথা বিশ্বাস করে, আপনার উচিত আপনার জায়গা-জমি-ভিটে-বাড়ি আমাকে দিয়ে দেওয়া। 

মুসলিমরা মনে করে – মৃত্যুর পরে মুসলিমরা বেহেশতে যাবে এবং হিন্দুরা মনে করে – মৃত্যুর পরে হিন্দুরা স্বর্গে যাবে। কিন্তু মুসলিমরা মনে করে মৃত্যুর পরে হিন্দুরা বেহেশতে যাবে না এবং হিন্দুরা মনে করে মৃত্যুর পরে মুসলিমরা স্বর্গে যাবে না। আবার হিন্দু ও মুসলিম উভয়ই মনে করে বেহেশত এবং স্বর্গ একই, সৃষ্টিকর্তা একজনই। পৃথিবীতে প্রায় ৪২০০ টি ধর্ম আছে। একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তা আছে  এমন দাবী করে ইসলাম ধর্ম, শিখ ধর্ম, জোরোস্ট্রিয়ান ধর্ম ইত্যাদি। যে কাজ করলে আল্লাহ বা ভগবানের একজন খুশি হয়, সেই একই কাজে আল্লাহ বা ভগবানের অন্যজন অখুশি হয়। বৈজ্ঞানিক প্রমাণবিহীন এই কাল্পনিক বেহেশত ও স্বর্গ প্রাপ্তির আশায় প্রতিদিন মুসলিমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য সময় দিচ্ছে এবং হিন্দুরা ১২ মাসে ১৩ পূজা করার জন্য সময় দিচ্ছে। এদিকে যারা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে না বা ১২ মাসে ১৩ পূজা করছে না, তারা এই সময়টাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং গবেষেণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কাজ করে দক্ষ ও উন্নত হয়ে ধার্মিক দেশের ধার্মিকদের প্রতি বছর সাহায্য-সহযোগিতা করে বাঁচিয়ে রাখছে।

সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ, ভগবান, মাকালী, দূর্গা, জ্বীন, ফেরেশতা, ভুত, পেত্নী, হাট্টিমাটিম টিম, রাক্ষস, খোক্কস ইত্যাদি আছে কিনা; মৃত্যুর পরে আমাদের নিয়ে আল্লাহ বা ভগবান কী করবে; মৃত্যুর পরে বেহেশত ও দোজখ আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে যতদিন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া না যাবে – ততদিন এসব অজানা বিষয়ের সৎ উত্তর হলো “জানিনা”। এসব হাবিজাবি বিষয়ে সময় দিতে গিয়ে অনেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম বাদ দেয় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় কম দেয় এবং পিছিয়ে থাকা দেশের নাগরিক হয়ে দুনিয়ার জীবনটাকেই তারা দোজখে বা নরকে পরিণত করে রাখে। প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা সত্য হিসাবে গ্রহণ করা হলো চরম মূর্খতার পরিচয়। মূলতঃ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলো অভিজ্ঞতালব্ধ (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষণ) প্রমাণ, অথবা গাণিতিক প্রমাণ, অথবা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। কোনো বিষয়ে কল্পনা, সম্ভাবনা, অনুমান, ধারণা, আজগুবি চিন্তা ইত্যাদি মানুষ করতে পারে এবং বিভিন্ন যুক্তি দিতে পারে। যে যুক্তি দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত সাউন্ড যুক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, তা কখনোই দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রমাণ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে দার্শনিকদের মধ্যে কোনো সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত সাউন্ড আর্গুমেন্ট প্রতিষ্ঠিত নেই; অতএব সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত আছে — এমন বলা হলে তা তথ্যগতভাবে মিথ্যা হবে। 

সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত সাউন্ড যুক্তির একটি উদাহরণ নিচে দেয়া হলো :

২ + ২ = ৪

৪ > ৩

তাই, ২ + ২ > ৩

[এখানে সংখ্যা, শব্দ ও প্রতিকগুলো প্রচলিত অর্থ বহন করে]

উল্লেখ্য, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের বিপক্ষে অনেক দার্শনিক ও মনীষী তাদের যুক্তি ও বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের কয়েকজন হলেন : কার্ল মার্ক্স, বার্ট্রান্ড রাসেল, ডেভিড হিউম, সিগমুন্ড ফ্রয়েড, জঁ-পল সার্ত্র ইত্যাদি।

যারা সত্যিকারে বিজ্ঞানমনস্ক নয় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন, তারা অনিশ্চিতের আশায় নিশ্চিতকে ত্যাগ করে।

অনেকে মনে করেন যে, ধর্ম পালন না করলে মৃত্যুর পরে সৃষ্টিকর্তা শাস্তি দিবে। আবার অনেকে মনে করেন – ধর্মগ্রন্থ অনুসারে ধর্ম পালন করলে মানসিক সুখ বা শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু তারাই আবার ধর্মগ্রন্থ থেকে বেছে বেছে ধর্ম পালন করে, অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থের যে বক্তব্য তার ভালো লাগে তা পালন করে এবং যে বক্তব্য তার ভালো লাগে না তা পালন করে না। তারা জানে না যে, ধর্ম পালন করতে হলে বেছে বেছে আংশিক ধর্ম পালন করা যাবে না, সম্পূর্ণ কুরআন মেনে চলতে হবে। এ কথা ধর্মগ্রন্থ কুরআনেই লেখা আছে।

এ বিষয়ে কুরআনের ২ নম্বর সুরা : বাকারাহ, আয়াত ৮৫ তে লেখা আছে –

“পরন্ত তোমরাই সেই লোক যারা পরস্পর নিজেদেরকে হত্যা করছ এবং তোমাদের একদলকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করছ, তোমরা নিজেরা তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন করে পরস্পরের সহযোগিতা করছ এবং তারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের নিকট হাজির হয়, তখন তোমরা মুক্তিপণ আদায় কর, মূলতঃ তাদের বহিষ্করণই তোমাদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ; তাহলে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।”

নিচের লিংকে ঢুকে এ বিষয়ে সরাসরি কুরআন থেকে পড়ুন (নিচের লিংকে ক্লিক করুন, অর্থাৎ আঙুল দিয়ে আস্তে একবার চাপ দিয়ে ছেড়ে দিন) :

https://quran.com/bn/2?startingVerse=85

যারা আরবী পড়ে বুঝতে পারেন, তাদের জন্য কুরআনের ঐ ২ নম্বর সুরা : বাকারাহ, আয়াত ৮৫-এর আরবী দেয়া হলো:

কুরআন-হাদিস অনুযায়ী, অর্থাৎ ইসলামী শরিয়া আইন অনুযায়ী বর্তমান সময়েও যেকোনো পিতা-মাতা তাদের অপ্রাপ্তবয়স্কা শিশু মেয়েকে, যেমন : ৭ বছর বা ৮ বছরের শিশু মেয়েকে বা তারও চেয়ে কম বয়সী শিশু মেয়েকে বিয়ে দিতে পারে। এটা ইসলামী শরিয়া আইনে কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। যদিও বর্তমান বাংলাদেশের কাফের আইন অনুযায়ী এটা ধর্ষণ হিসাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি কি আপনার ৭ বছর বা ৮ বছর বয়সের শিশু মেয়েকে বা বোনকে কারো কাছে বিয়ে দিতে চান না? অথচ ইসলামী শরীয়া চান? ইসলামী শরীয়া আইন অনুযায়ী অন্য কারো ৭ বছর বা ৮ বছরের শিশু মেয়েকে বা বোনকে অন্য কেউ বিয়ে করলে, সেই আপনিই হয়তো আপত্তি করেন না। কারণ, আপনি হয়তো দেশে ইসলামী শরীয়া আইন চালু করার পক্ষে। একজন চোর, ডাকাত, জঙ্গি, খুনী, ধর্ষকও চায় অন্যের প্রতি অপরাধ করতে। কিন্তু সেই একই অপরাধের শিকার সে নিজে হতে চায় না।

হিন্দু ধর্মেও অপ্রাপ্তবয়স্কা শিশু মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কথা লেখা রয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিধান অনুযায়ী ১২ বছর বয়স হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ে দেয়ার কথা লেখা আছে হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পরাশর সংহিতা, ৭ম অধ্যায়, শ্লোক ৭ এবং ৮ তে।

শিশু মেয়ে বিয়ে করা যাবে, এটা কুরআনের ৬৫ নম্বর সুরা : আত-তালাক্ব, আয়াত : ৪ তে লেখা আছে –

“তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।”

অপ্রাপ্তবয়স্কা শিশু মেয়ে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি কুরআন-হাদিস থেকে প্রমাণ পাবার জন্য আপনার বাসায় যদি কুরআন-হাদিস থাকে, তাহলে দয়াকরে একটু খুলে পড়ে যাচাই করে দেখুন। অথবা কুরআন-হাদিস কারো থেকে ধার নিয়ে নিজে পড়ে যাচাই করুন। অথবা কুরআন-হাদিস দোকান থেকে কিনে এনে পড়ে যাচাই করুন। অথবা মুসলিম বিখ্যাত আলেম-ওলামাদের প্রকাশিত অনলাইন কুরআন-হাদিসের নিচের লিংকে ঢুকুন :

https://quran.com/bn/65?startingVerse=4 

যারা আরবী পড়ে বোঝেন, তাদের জন্য কুরআনের ঐ ৬৫ নম্বর সুরা : আত-তালাক্ব, আয়াত : ৪ এর আরবী লেখাও দেয়া হলো :

কুরআনের ঐ ৬৫ নম্বর সুরা : আত-তালাক্ব, আয়াত : ৪ এর তাফসিরে ইবনে কাসির-এ লেখা আছে –

“…যেসব অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের এখনো রজস্বলা হয়নি তাদেরও ইদ্দত তিন মাস।”

https://quran.com/bn/65:4/tafsirs/bn-tafseer-ibn-e-kaseer

‘রজস্বলা’ মানে হলো – মেয়েদের মাসিক/পিরিয়ড/ঋতু/মিন্স।

‘ইদ্দত’ মানে হলো – বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি যৌনমিলন হয় এবং তারপর স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, বা স্বামী যদি মারা যায়, তাহলে ঐ মেয়েকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে করার জন্য কমপক্ষে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই ৩ মাস অপেক্ষার সময়কালকে ‘ইদ্দত’ বা ‘ইদ্দতকাল’ বলে। উল্লেখ্য, কোনো কারণে বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনমিলন হওয়ার আগেই যদি স্বামী মারা যায় বা স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে ‘ইদ্দত’ বা ঐ ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয় না। তার আগেই মেয়েটি অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারে।

বিয়ের পরে যৌনমিলন করার কারণে স্ত্রীর পেটে বাচ্চা এসেছে কিনা তা যাচাই করতে এই ‘ইদ্দত’ পালন করা হয়। যদি কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনমিলন না হয়, তাহলে ‘ইদ্দত’ পালন করতে হয় না – এটা লেখা আছে কুরআনের ৩৩ নম্বর সুরা : আহযাব, আয়াত ৪৯ তে :

“হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন মু’মিন নারীকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের জন্য তোমাদেরকে কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না যা তোমরা (অন্যক্ষেত্রের তালাকে) গণনা করে থাক। কাজেই কিছু সামগ্রী তাদেরকে দাও আর তাদেরকে বিদায় দাও উত্তম বিদায়ে।”

   https://quran.com/bn/33?startingVerse=49

সহিহ মুসলিম (হাদীস একাডেমি থেকে প্রকাশিত) ৩৩৭০ নম্বর হাদিসে লেখা আছে :

“পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে।”

সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী) ৫১৩৩ নম্বর হাদিসেও লেখা আছে –

“…নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।”

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=29696

বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে সরেজমিনে গিয়ে জানার চেষ্টা করুন, বা কাগজের বইপত্র পড়ে জানার চেষ্টা করুন, বা ইন্টারনেট অনলাইনের চ্যাটজিপিটি  www.chatgpt.com  থেকে জানার চেষ্টা করুন। যারা ন্যূনতম একটু খোঁজ-খবর রাখেন, তারা জানেন যে – পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থা কেমন হয়েছে। তালেবান শাসিত শরীয়া আইনে চলা আফগানিস্তানে দরিদ্রতার কারণে পিতা-মাতা তাদের শিশু কন্যা সন্তানকে (যৌনদাসী হিসাবে) বিক্রয় করে দিয়ে সংসার খরচ চালাচ্ছে। প্রথম সারির সংবাদপত্রের নিচের লিংকে ঢুকে প্রমাণ দেখুন :

https://dailyinqilab.com/international/news/896560

আরও একটি লিংক থেকে প্রমাণ দেখুন :

https://www.bbc.com/bengali/news-63750020

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হিসাবেই আছে। যদি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ‘ধর্ম’ নামক অশিক্ষা‑কুশিক্ষার বাধ্যতামূলক বিষয়টি বাদ দেয়া হয়, তাহলে হয়তো পরবর্তী মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শিশুরা Childhood Indoctrination (শৈশবকালীন অন্ধ মগজধোলাই) থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তী জীবনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণবিহীন অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত হবে, পড়াশুনা ও প্রশ্ন করার ব্যাপারে উৎসাহী হবে, যুক্তিনির্ভর কাজকর্ম এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা করে উন্নত হতে পারবে এবং তাতে দেশও উন্নত হবে, কারণ আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

না জানাটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু জানার চেষ্টা না করাটা হলো দোষের।

ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, তাহলে ধর্মে কী আছে বা না আছে জানতে পারবেন। ধর্মগ্রন্থ হলো কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদি। কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদিতে অমুক লেখা আছে বা তমুক লেখা আছে – কারো এমন চটকদার কথায় অন্ধবিশ্বাস করবেন না। কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদি নিজে পড়ে যাচাই করে দেখবেন, তাহলে বুঝতে পারবেন – ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে যিনি বলেছেন, তিনি সত্য কথা বলেছেন নাকি মিথ্যা কথা বলেছেন।

কুরআন-হাদিস পড়ার জন্য অমুসলিমদের প্রকাশিত বইয়ের চেয়ে মুসলিমদের প্রকাশিত বইয়ের উপর বেশি ভরসা করবেন। সম্পূর্ণ কুরআন আবরী ও বাংলা অর্থসহ পড়ার জন্য মুসলিম আলেম-ওলামাদের দ্বারা প্রকাশিত নিচের বিখ্যাত ওয়েবসাইটের লিংকে ঢুকুন:

https://quran.com/bn

কুরআন ও হাদিস উভয়ই আরবী এবং বাংলা অর্থসহ পড়ার জন্য মুসলিম আলেম-ওলামাদের দ্বারা প্রকাশিত বিখ্যাত ওয়েবসাইটের লিংকে ঢুকুন :

www.hadithbd.com  

সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি – সুপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা ধর্মব্যবসা বন্ধ করতে এগিয়ে আসুন। আপনি যদি ধর্মব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র দিয়ে তাদের পেটপূজা করার সুযোগ করে না দেন, তাহলে এই ধর্মব্যবসায়ীরা বেঁচে থাকার তাগিদে সমাজের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হবে এবং এতে সমাজের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। এতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও শান্তিপূর্ণ ও উন্নত পৃথিবী দ্রুত গঠন করা সম্ভব হবে। ধর্মব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র দিয়ে তাদের পেটপূজা করার সুযোগ করে দিলে, এই অলস ও ঘৃণা ছড়ানো ধর্মব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে সভ্যতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার দায়ভার আপনার উপরও থাকবে। 

মানসিক সুখ ও শান্তি পাবার জন্য অবসর সময়ে বিভিন্ন ভালোভালো বইপত্র পড়ুন; ব্যায়াম করুন; খেলাধুলা করুন; সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হোন; টিভি দেখুন; সংবাদপত্র পড়ুন; অনলাইনে শিক্ষণীয় বা সুস্থ বিনোদনমূলক তথ্য দেখুন; ঘুরতে ও বেড়াতে বের হন; লেখালেখি করুন; বিভিন্ন মানুষের সাথে যুক্তিনির্ভর আলোচনা বা গল্প করুন; পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণাধর্মী কাজ করুন; শিশু বা অন্য যারা কোনো বিষয়ে জানে না, তাদের পড়াশুনা শিখিয়ে অর্থাৎ সে বিষয়ে জানিয়ে আপনার মৃত্যুর পরে তাদের উন্নত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখুন (পৃথিবীর স্থান সীমিত হওয়ায়, মানুষ অমর হলে এই পৃথিবী হয়তো খুব দ্রুতই বসবাসের স্থান সংকটে পরিণত হয়ে বসবাস অযোগ্য হয়ে যাবে); এবং সবসময় রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলুন। এক কথায় – হিংসা ও ঘৃণা প্রচারকারী, ধর্মীয় কুশিক্ষা বিস্তারকারী, ধর্মান্ধ, ধর্মব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাত, টাউট, বাটপার, দুর্নীতিগ্রস্ত, ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, রাষ্ট্রীয় আইন অমান্যকারী হওয়া বাদে দেশ ও সমাজের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ করুন। সত্যিকারে যারা দরিদ্র ও নিরুপায়, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করুন। নিজে ধর্মান্ধ হয়ে সময় অপচয় করবেন না, বা অন্য কাউকে ধর্মান্ধ হওয়ার জন্য সাহায্য-সহযোগিতা বা উদ্বুদ্ধ করবেন না।

কুরআনে ভুল আছে

অংশগুলোর যোগফল হয় :

অর্থাৎ,

এভাবে দিতে গেলে ১২ টাকা থেকে ৬ টাকা + ২ টাকা + ২ টাকা + ৩ টাকা = ১৩ টাকা দেয়া লাগবে।

তাহলে আপনি কি এভাবে ভাগ করে দিতে পারবেন? নাকি বলবেন যে, আমি ভুলভাবে অংশগুলোর উল্লেখ করেছি।

এটা পৃথিবীর যেকোনো মানুষ বললে তা ভুল হিসাবে বিবেচিত হবে। কিন্তু হুবহু একই ভুল হিসাব তাদের কাল্পনিক আল্লায় দিলে তা ধর্মান্ধদের কাছে সঠিক মনে হয়।

আপনি যদি কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ এবং ১২ পড়েন; তাহলে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

একজন মৃত মহিলার – যদি শুধু একটা কন্যা সন্তান জীবিত থাকে এবং অন্য কোনো সন্তান না থাকে, মৃত মহিলার বাবা জীবিত থাকে, মৃত মহিলার মা জীবিত থাকে এবং মৃত মহিলার স্বামী জীবিত থাকে; এক্ষেত্রে ঐ মৃত মহিলার পৃথিবীতে আর কোনো আত্মীয়-স্বজন যদি না থাকে তাহলে কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ এবং ১২ অনুযায়ী ঐ মৃত মহিলার :

অংশগুলোর যোগফল হয় :

কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ তে লেখা আছে :

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে, তবে সন্তান-সন্ততি যদি শুধু দু’জন নারীর অধিক হয় তাহলে তাঁরা রেখে যাওয়া সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ ভাগ পাবে, আর কেবল একটি কন্যা থাকলে সে অর্ধেক পাবে এবং তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকে রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে যদি তার সন্তান থাকে, আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার ওয়ারিশ মাতা-পিতাই হয়, সে অবস্থায় তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ, কিন্তু তার ভাই-বোন থাকলে, তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ঐসব বণ্টন হবে) তার কৃত ওয়াসীয়াত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমরা জান না তোমাদের পিতা এবং সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের পক্ষে উপকারের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। (এ বণ্টন) আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাশীল।” 

https://quran.com/bn/4?startingVerse=11


কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১২ তে লেখা আছে :

“তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য- যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে আর যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর এবং তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির সিকি অংশ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ- তোমাদের কৃত ওয়াসীয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা নারীর শুধু বৈপিত্রেয় একটি ভাই বা একটি ভগ্নি থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছ’ ভাগের এক ভাগ। যদি তারা তার চেয়ে অধিক হয়, তবে সকলেই তৃতীয়াংশে শরীক হবে কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে, যদি কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়, এ হল আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।” 

https://quran.com/bn/4?startingVerse=12

ধরুন, ঐ মৃত মহিলার মোট সম্পত্তি হলো ১২ লক্ষ টাকা। তাহলে তার –
অর্থাৎ, কুরআন অনুযায়ী – একজন মৃত মহিলার ১২ লক্ষ টাকা থেকে তার :

তাহলে ১২ লক্ষ টাকা থেকে দেয়া লাগবে ৬ লক্ষ + ২ লক্ষ + ২ লক্ষ + ৩ লক্ষ = ১৩ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ, কুরআন অনুযায়ী অংশগুলোর যোগফল হয় :  




কুরআনের এই ভুলটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে খলিফা উমরের শাসনামলে। মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ছিলেন ইবনে আব্বাস। এই ইবনে আব্বাস কুরআন সবচেয়ে ভালো বুঝতেন, তার মতো এত ভালো আর কেউ কুরআন বুঝতো না। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস ছিলেন কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসিরকারক (ব্যাখ্যাকারী)।

সহিহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৭২৭০

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=32110 

এই ইবনে আব্বাস ধর্মব্যবসা অব্যাহত রাখার স্বার্থে কুরআনের কাল্পনিক আল্লাহর হিসাব বাতিল করে ঘোষণা দেয় যে – এক্ষেত্রে সবাইকে কুরআনে উল্লিখিত অংশ অনুযায়ী দিতে হবে, তবে শুধু মৃত ব্যক্তির কন্যাকে কুরআনে উল্লিখিত অংশ অনুযায়ী না দিয়ে সবাইকে দেয়ার পরে বাকি যা থাকবে তাই দিতে হবে কন্যাকে। অর্থাৎ, ইবনে আব্বাসের হিসাব অনুযায়ী ঐ মৃত মহিলার ১২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি থেকে তার:

ধর্মব্যবসায়ী জাকির নায়েকও কাল্পনিক আল্লাহর কুরআনের হিসাব ছুড়ে ফেলে দিয়ে ইবনে আব্বাসের পদ্ধতিতে হিসাব মিলিয়েছে। জাকির নায়েক তার ভিডিও বক্তব্যের শেষের দিকে বলেছেন – “উত্তরাধিকারের অংশ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ইসলামের আইন অনুযায়ী প্রথমে হিসাব করা হয় স্বামী বা স্ত্রীকে, তারপর বাবা-মাকে, তারপর যে অংশটা বাকী থাকে সে অংশটা সন্তানরা পায়।” নিচের লিংকে জাকির নায়েকের সেই ভিডিওটা দেখুন :

https://www.youtube.com/watch?v=KoFtxAW-cUs

আবার আরেকদল ধর্মব্যবসায়ী ইবনে আব্বাস ও জাকির নায়েকের হিসাবকে বাতিল করে দিয়ে ভিন্ন আরেক পদ্ধতিতে হিসাব মিলিয়েছে। ভিন্ন এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘আউল’ পদ্ধতি। আউল পদ্ধতি হলো কপি পেস্ট করার পদ্ধতি। অর্থাৎ, সবগুলো অংশ যোগ করার পরে যোগফলে প্রাপ্ত উপরের সংখ্যাকে (লবকে) কপি করে নিচের (হরের) সব সংখ্যার জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে। 

যেমন – পূর্বে আমরা অংশগুলোর যোগফল পেয়েছিলাম : 

এখন আউল পদ্ধতিতে : অংশগুলোর যোগফলের উপরে প্রাপ্ত ১৩ কে কপি করে নিচের সব জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে। 

ফলে, আউল পদ্ধতিতে 
কিন্তু কুরআন অনুযায়ী : ঐ মৃত মহিলার ১২ লক্ষ টাকা থেকে তার –

পৃথিবীর যেকোনো অশিক্ষিত ও মূর্খ ব্যক্তির ভুল হিসাবকে এই গোঁজামিল কপি পেস্ট আউল পদ্ধতির মাধ্যমে মিলিয়ে দেয়া যায়।

যেমন, ধরুন – আমি বললাম যে, আমার মৃত্যুর পরে আমার ২০ লক্ষ টাকা থেকে আমার আত্মীয় :

অর্থাৎ,  
অর্থাৎ, আমি ২০ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ + ৩৫ লক্ষ + ১৮ লক্ষ + ৫০ লক্ষ = ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছি।

এক্ষেত্রে গোঁজামিল কপি পেস্ট আউল পদ্ধতিতে হিসাব মেলাতে হবে।

নির্ধারিত অংশগুলোর যোগ করলে হয় :  




এখন গোঁজামিল কপি পেস্ট আউল পদ্ধতিতে হিসাব মেলানোর জন্য উপরের ১১৫ কে কপি করে নিচের সব সংখ্যার জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে।

তাহলে, ধর্মব্যবসায়ীদের আউল পদ্ধতিতে আমার ঐ ২০ লক্ষ টাকা থেকে :

কিন্তু আমি চেয়েছিলাম : 

সুপ্রাচীনকাল থেকে ধর্মব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য ধর্মব্যবসায়ীরা সকল প্রকার বাটপারি চেষ্টার ত্রুটি করে নাই।

মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস, যিনি হলেন কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসিরকারক (ব্যাখ্যাকারী), তিনি এই ধাপ্পাবাজির কপি পেস্ট আউল পদ্ধতি মানেন নাই। নিচের লিংকে দেখুন:

https://majalla.org/ilm/sunni-fiqh-on-awl/

তাহলে, মুসলিম ভাই ও বোনেরা – আপনারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যান। ইবনে আব্বাস ও জাকির নায়েকের দলে; অথবা আউল পদ্ধতির দলে।

ভুল করেছে আল্লায়,
শুধরে দিচ্ছে মোল্লায় !!

কুরআন ও সহিহ হাদিসে লেখা অসংখ্য অমানবিক, নোংরা ও ভুলের মধ্য থেকে প্রমাণসহ সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো :

মুহাম্মদ বলেছে – কেউ যদি বংশগর্ব করে, তাহলে তাকে তার বাপের লিঙ্গ কামড়াতে বলো।
হাদিস সম্ভার (সহিহ হাদিস), হাদিস নম্বর ২০৩৭

মুহাম্মদ বলেছে – চুরি করে বা ধর্ষণ করে কেউ যদি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে, তাহলে সে বেহেশতে যাবে।
সহীহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৫৮২৭
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30414

ইসলামী শরিয়া আইন অনুযায়ী – একজন প্রাপ্তবয়স্কা মেয়ে যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে বিয়ে করতে না চায়, তাহলে ঐ মেয়ে তার স্তন চুষিয়ে দিবে ঐ পুরুষকে দিয়ে।
সহীহ মুসলিম হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৩৪৬৯
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=13080

# ৯ বছর বয়সী শিশু আয়েশাকে খতনা করিয়ে মুহাম্মদের সাথে সেক্স করতে পাঠানো হয়।
সুনান আত তিরমিজী হাদিস (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর ১০৮
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=39135

মুহাম্মদ প্রতি রাতে তার ৯ জন স্ত্রীর সাথে যৌনমিলন করতো।
সহীহ বুখারী হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ২৬৬
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=275

নবী সুলায়মান প্রতি রাতে তার ১০০ জন স্ত্রীর সাথে যৌনমিলন করতো।
সহীহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৫২৪২
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=29809

মুহাম্মদের অনুপস্থিতিতে মুহাম্মদের যৌনদাসী মারিয়া কিবতিয়ার সাথে কোনো এক ব্যক্তি গোপনে যৌনমিলন করে। এতে যৌনদাসীটি পরবর্তীতে একটি সন্তান জন্ম দেয়। এ কারণে গোপনে যৌনমিলনকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে মুহাম্মদ তার মেয়ের জামাই আলীকে পাঠায়।
সহীহ মুসলিম হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৬৭৬৬
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=19089

অমুসলিম জীবিত স্বামীকে বন্দী করে রাখা অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে যৌনমিলন করা বৈধ।
কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ২৪
https://quran.com/bn/4?startingVerse=24
এবং
কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ২৪ এর ইবনে কাসিরের তাফসির
https://quran.com/bn/4:24/tafsirs/bn-tafseer-ibn-e-kaseer
এবং
সুনান আবূ দাউদ হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ২১৫২
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=34260

আজানের শব্দ শুনে শয়তান পাদতে পাদতে দৌঁড়ে পালায়।
সহীহ বুখারী হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ১১৫৯
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=1166

মেঘের ডাক হলো ফেরেশতার হাক-ডাক।
সুনান আত তিরমিজী হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৩১১৭
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=38469

জাহান্নামের নিঃশ্বাস দেয়া-নেয়ার জন্য গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৩২৬০
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27599

ইসলাম অনুযায়ী – পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে না। সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে।
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
https://www.hadithbd.com/books/link/?id=548

কোনো ব্যক্তি ৭ টি আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলেও তার কোনো ক্ষতি হবে না।
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) হাদিস, হাদিস নম্বর ৪১৯০
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=74913

রোগ নিরাময়ের জন্য উটের দুধ ও উটের মুত পান করা যাবে।
সুনান আন-নাসায়ী হাদিস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৪০২৫
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=78056

মুসা নবীর কাপড় নিয়ে একটা পাথর দৌঁড়ে পালাচ্ছিলো।
সহীহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ২৭৮
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=24114

মাছি পানিতে পড়লে, সেই মাছি পানিতে চুবিয়ে পানি পান করা যাবে।
সহীহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৩৩২০
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27659

মুহাম্মদ বলেছে – হায়েনা জবাই করে গোশত খাওয়া হালাল।
বুলুগুল মারাম হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ১৩২৫
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=71136

ব্যাংক থেকে নেয়া সুদ বা অন্য কোনোভাবে নেয়া সুদ যে ব্যক্তি গ্রহণ করবে; সুদ গ্রহণকারী সেই ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।
কুরআনের ২ নম্বর সুরা – বাকারাহ, আয়াত ২৭৫
https://quran.com/bn/2?startingVerse=275

উপরের লেখা পড়ে এবং লিংকগুলোতে ঢুকে লেখা পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, মসজিদ-মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ এবং সারা পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করার উৎস হলো কুরআন ও হাদিস, অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থ।

মূল বিষয়টি বুঝতে পেরে ইতিমধ্যে ইসলামকে মানসিক রোগ ও সংক্রামক ব্যাধি মনে করে চীন দেশ। প্রথম সারির জাতীয় সংবাদপত্রের লিংকে ঢুকে পড়ুন :
https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2019/03/15/747557

কারো কথা শুনে বা কারো লেখা পড়ে অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না। মূল ধর্মগ্রন্থ কুরআন ও হাদিস নিজে পড়ুন, যাচাই করুন। ধর্মব্যবসায়ী, ভণ্ড, মূর্খ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, মিথ্যাবাদী, টাউট ও বাটপারদের শিকারে পরিণত হবেন না। ধর্ম শিখে অশিক্ষিত- কুশিক্ষিত হবেন না, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং হিংসা-ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচারকারী হবেন না। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোন, সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত জীবন উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখুন।

ধর্মগ্রন্থে লিখিত নোংরা, অমানবিক বিষয় ও ভুল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ঢুকে পড়াশুনা করুন (ঢুকতে না পারলে, VPN ব্যবহার করে ঢুকুন)।
https://www.shongshoy.com/

পড়াশুনার কোনো বিকল্প নাই।

সবার ভালো কামনা করি। সবাই ভালো থাকুন। ধন্যবাদ

----- X -----

Comments

  1. নিচের লিংকটি হলো উপরের লেখার লিংক। উপরের লেখা পড়ে ভালো লাগলে, লিংকটি কপি করে সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
    https://nusratmim456.blogspot.com/2026/06/blog-post.html
    ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Post a Comment