যখন সময় পাবেন, তখন ধর্মগ্রন্থ কুরআন ও হাদিস অর্থসহ বুঝে-বুঝে পড়বেন।
না পড়ে, না জেনে দয়াকরে আন্দাজে কথা বলবেন না।
ধর্মগ্রন্থ নিজে পড়লে বুঝতে পারবেন – ধর্ম মানুষকে নৈতিক বানায় নাকি অনৈতিক বানায়।
যেকোনো সুস্থ, সভ্য, ভদ্র,
মানবিক ও সুশিক্ষিত মানুষের আবশ্যিক শ্লোগান হওয়া উচিত –
“বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়।
আবেগের চেয়ে প্রমাণ বড়।”
শাস্তির ভয়ে, বা লোভে পড়ে, বা মানসিক সুখ ও শান্তির জন্য নিজের বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে চিন্তা-ভাবনা ছাড়া কোনো কিছু বলা বা করা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের কাজ নয়। একজন নেশাখোর নিজের মনের সুখ ও শান্তির জন্য নেশা করতে পারে, তাতে নেশা করাটা ভাল কাজ হয়ে যায় না। প্রমাণ ছাড়া আপনি অন্ধবিশ্বাস করতে পারলে; আমিও প্রমাণ ছাড়া অন্ধবিশ্বাস করতে পারি যে, আপনার জায়গা-জমি-ভিটে-বাড়ি এগুলো আমার। তাহলে, প্রমাণ ছাড়া আমার কথা বিশ্বাস করে, আপনার উচিত আপনার জায়গা-জমি-ভিটে-বাড়ি আমাকে দিয়ে দেওয়া।
মুসলিমরা মনে করে – মৃত্যুর পরে মুসলিমরা বেহেশতে যাবে এবং হিন্দুরা
মনে করে – মৃত্যুর পরে হিন্দুরা স্বর্গে যাবে। কিন্তু মুসলিমরা মনে করে মৃত্যুর পরে
হিন্দুরা বেহেশতে যাবে না এবং হিন্দুরা মনে করে মৃত্যুর পরে মুসলিমরা স্বর্গে যাবে
না। আবার হিন্দু ও মুসলিম উভয়ই মনে করে বেহেশত এবং স্বর্গ একই, সৃষ্টিকর্তা একজনই। পৃথিবীতে প্রায় ৪২০০ টি ধর্ম আছে। একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তা আছে – এমন দাবী করে ইসলাম ধর্ম, শিখ ধর্ম, জোরোস্ট্রিয়ান ধর্ম ইত্যাদি। যে কাজ করলে আল্লাহ
বা ভগবানের একজন খুশি হয়, সেই একই কাজে আল্লাহ বা ভগবানের অন্যজন অখুশি হয়। বৈজ্ঞানিক
প্রমাণবিহীন এই কাল্পনিক বেহেশত ও স্বর্গ প্রাপ্তির আশায় প্রতিদিন মুসলিমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার
জন্য সময় দিচ্ছে এবং হিন্দুরা ১২ মাসে ১৩ পূজা করার জন্য সময় দিচ্ছে। এদিকে যারা প্রতিদিন
৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে না বা ১২ মাসে ১৩ পূজা করছে না, তারা এই সময়টাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান
এবং গবেষেণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কাজ করে দক্ষ ও উন্নত হয়ে ধার্মিক দেশের ধার্মিকদের প্রতি
বছর সাহায্য-সহযোগিতা করে বাঁচিয়ে রাখছে।
সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ, ভগবান, মাকালী, দূর্গা, জ্বীন, ফেরেশতা, ভুত, পেত্নী, হাট্টিমাটিম টিম, রাক্ষস, খোক্কস ইত্যাদি আছে কিনা; মৃত্যুর পরে আমাদের নিয়ে আল্লাহ বা ভগবান কী করবে; মৃত্যুর পরে বেহেশত ও দোজখ আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে যতদিন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া না যাবে – ততদিন এসব অজানা বিষয়ের সৎ উত্তর হলো “জানিনা”। এসব হাবিজাবি বিষয়ে সময় দিতে গিয়ে অনেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম বাদ দেয় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় কম দেয় এবং পিছিয়ে থাকা দেশের নাগরিক হয়ে দুনিয়ার জীবনটাকেই তারা দোজখে বা নরকে পরিণত করে রাখে। প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা সত্য হিসাবে গ্রহণ করা হলো চরম মূর্খতার পরিচয়। মূলতঃ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলো অভিজ্ঞতালব্ধ (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষণ) প্রমাণ, অথবা গাণিতিক প্রমাণ, অথবা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। কোনো বিষয়ে কল্পনা, সম্ভাবনা, অনুমান, ধারণা, আজগুবি চিন্তা ইত্যাদি মানুষ করতে পারে এবং বিভিন্ন যুক্তি দিতে পারে। যে যুক্তি দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত সাউন্ড যুক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, তা কখনোই দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রমাণ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে দার্শনিকদের মধ্যে কোনো সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত সাউন্ড আর্গুমেন্ট প্রতিষ্ঠিত নেই; অতএব সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে দার্শনিকদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত আছে — এমন বলা হলে তা তথ্যগতভাবে মিথ্যা হবে।
২ + ২ = ৪
৪ > ৩
তাই, ২ + ২ > ৩
উল্লেখ্য, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের বিপক্ষে অনেক দার্শনিক ও মনীষী তাদের যুক্তি ও বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের কয়েকজন হলেন : কার্ল মার্ক্স, বার্ট্রান্ড রাসেল, ডেভিড হিউম, সিগমুন্ড ফ্রয়েড, জঁ-পল সার্ত্র ইত্যাদি।
যারা সত্যিকারে বিজ্ঞানমনস্ক নয় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন, তারা অনিশ্চিতের আশায় নিশ্চিতকে ত্যাগ করে।
অনেকে মনে করেন যে, ধর্ম পালন না করলে মৃত্যুর পরে সৃষ্টিকর্তা
শাস্তি দিবে। আবার অনেকে মনে করেন – ধর্মগ্রন্থ অনুসারে ধর্ম পালন করলে মানসিক সুখ
বা শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু তারাই আবার ধর্মগ্রন্থ থেকে বেছে বেছে ধর্ম পালন করে,
অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থের যে বক্তব্য তার ভালো লাগে তা পালন করে এবং যে বক্তব্য তার ভালো
লাগে না তা পালন করে না। তারা জানে না যে, ধর্ম পালন করতে হলে বেছে বেছে আংশিক ধর্ম
পালন করা যাবে না, সম্পূর্ণ কুরআন মেনে চলতে হবে। এ কথা ধর্মগ্রন্থ কুরআনেই লেখা আছে।
এ বিষয়ে কুরআনের ২ নম্বর সুরা : বাকারাহ, আয়াত ৮৫ তে লেখা আছে –
“পরন্ত তোমরাই সেই লোক যারা পরস্পর নিজেদেরকে হত্যা করছ এবং
তোমাদের একদলকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করছ, তোমরা নিজেরা তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন
করে পরস্পরের সহযোগিতা করছ এবং তারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের নিকট হাজির হয়, তখন তোমরা
মুক্তিপণ আদায় কর, মূলতঃ তাদের বহিষ্করণই তোমাদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ; তাহলে কি তোমরা
কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের যারা
এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের
দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল
নন।”
নিচের লিংকে ঢুকে এ বিষয়ে সরাসরি কুরআন থেকে পড়ুন (নিচের লিংকে ক্লিক করুন, অর্থাৎ আঙুল দিয়ে আস্তে একবার চাপ দিয়ে ছেড়ে দিন) :
https://quran.com/bn/2?startingVerse=85
হিন্দু ধর্মেও অপ্রাপ্তবয়স্কা শিশু মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কথা লেখা
রয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিধান অনুযায়ী ১২ বছর বয়স হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ে দেয়ার কথা
লেখা আছে হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পরাশর সংহিতা, ৭ম অধ্যায়, শ্লোক ৭ এবং ৮ তে।
শিশু মেয়ে বিয়ে করা যাবে, এটা কুরআনের ৬৫ নম্বর সুরা : আত-তালাক্ব, আয়াত : ৪ তে লেখা আছে –
“তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে
যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প
বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের
‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে
দেন।”
অপ্রাপ্তবয়স্কা শিশু মেয়ে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি কুরআন-হাদিস থেকে প্রমাণ পাবার জন্য আপনার বাসায় যদি কুরআন-হাদিস থাকে, তাহলে দয়াকরে একটু খুলে পড়ে যাচাই করে দেখুন। অথবা কুরআন-হাদিস কারো থেকে ধার নিয়ে নিজে পড়ে যাচাই করুন। অথবা কুরআন-হাদিস দোকান থেকে কিনে এনে পড়ে যাচাই করুন। অথবা মুসলিম বিখ্যাত আলেম-ওলামাদের প্রকাশিত অনলাইন কুরআন-হাদিসের নিচের লিংকে ঢুকুন :
https://quran.com/bn/65?startingVerse=4
“…যেসব অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের এখনো রজস্বলা হয়নি তাদেরও ইদ্দত
তিন মাস।”
https://quran.com/bn/65:4/tafsirs/bn-tafseer-ibn-e-kaseer
‘রজস্বলা’ মানে হলো – মেয়েদের মাসিক/পিরিয়ড/ঋতু/মিন্স।
‘ইদ্দত’ মানে হলো – বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি যৌনমিলন হয় এবং তারপর স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, বা স্বামী যদি মারা যায়, তাহলে ঐ মেয়েকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে করার জন্য কমপক্ষে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই ৩ মাস অপেক্ষার সময়কালকে ‘ইদ্দত’ বা ‘ইদ্দতকাল’ বলে। উল্লেখ্য, কোনো কারণে বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনমিলন হওয়ার আগেই যদি স্বামী মারা যায় বা স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে ‘ইদ্দত’ বা ঐ ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয় না। তার আগেই মেয়েটি অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারে।
বিয়ের পরে যৌনমিলন করার কারণে স্ত্রীর পেটে বাচ্চা এসেছে কিনা তা যাচাই করতে এই ‘ইদ্দত’ পালন করা হয়। যদি কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনমিলন না হয়, তাহলে ‘ইদ্দত’ পালন করতে হয় না – এটা লেখা আছে কুরআনের ৩৩ নম্বর সুরা : আহযাব, আয়াত ৪৯ তে :
“হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন মু’মিন নারীকে বিবাহ কর, অতঃপর
তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের জন্য তোমাদেরকে কোন ইদ্দত
পালন করতে হবে না যা তোমরা (অন্যক্ষেত্রের তালাকে) গণনা করে থাক। কাজেই কিছু সামগ্রী
তাদেরকে দাও আর তাদেরকে বিদায় দাও উত্তম বিদায়ে।”
সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী) ৫১৩৩ নম্বর হাদিসেও লেখা আছে –
“…নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।”
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=29696
বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে সরেজমিনে গিয়ে জানার চেষ্টা করুন, বা কাগজের বইপত্র পড়ে জানার চেষ্টা করুন, বা ইন্টারনেট অনলাইনের চ্যাটজিপিটি www.chatgpt.com থেকে জানার চেষ্টা করুন। যারা ন্যূনতম একটু খোঁজ-খবর রাখেন, তারা জানেন যে – পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থা কেমন হয়েছে। তালেবান শাসিত শরীয়া আইনে চলা আফগানিস্তানে দরিদ্রতার কারণে পিতা-মাতা তাদের শিশু কন্যা সন্তানকে (যৌনদাসী হিসাবে) বিক্রয় করে দিয়ে সংসার খরচ চালাচ্ছে। প্রথম সারির সংবাদপত্রের নিচের লিংকে ঢুকে প্রমাণ দেখুন :
https://dailyinqilab.com/international/news/896560
আরও একটি লিংক থেকে প্রমাণ দেখুন :
https://www.bbc.com/bengali/news-63750020
না জানাটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু জানার চেষ্টা না করাটা হলো দোষের।
ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, তাহলে ধর্মে কী আছে বা না আছে জানতে পারবেন। ধর্মগ্রন্থ হলো কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদি। কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদিতে অমুক লেখা আছে বা তমুক লেখা আছে – কারো এমন চটকদার কথায় অন্ধবিশ্বাস করবেন না। কুরআন, হাদিস, বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদি নিজে পড়ে যাচাই করে দেখবেন, তাহলে বুঝতে পারবেন – ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে যিনি বলেছেন, তিনি সত্য কথা বলেছেন নাকি মিথ্যা কথা বলেছেন।
কুরআন-হাদিস পড়ার জন্য অমুসলিমদের প্রকাশিত বইয়ের চেয়ে মুসলিমদের প্রকাশিত বইয়ের উপর বেশি ভরসা করবেন। সম্পূর্ণ কুরআন আবরী ও বাংলা অর্থসহ পড়ার জন্য মুসলিম আলেম-ওলামাদের দ্বারা প্রকাশিত নিচের বিখ্যাত ওয়েবসাইটের লিংকে ঢুকুন:
কুরআন ও হাদিস উভয়ই আরবী এবং বাংলা অর্থসহ পড়ার জন্য মুসলিম আলেম-ওলামাদের দ্বারা প্রকাশিত বিখ্যাত ওয়েবসাইটের লিংকে ঢুকুন :
সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি – সুপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা ধর্মব্যবসা বন্ধ করতে এগিয়ে আসুন। আপনি যদি ধর্মব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র দিয়ে তাদের পেটপূজা করার সুযোগ করে না দেন, তাহলে এই ধর্মব্যবসায়ীরা বেঁচে থাকার তাগিদে সমাজের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হবে এবং এতে সমাজের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। এতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও শান্তিপূর্ণ ও উন্নত পৃথিবী দ্রুত গঠন করা সম্ভব হবে। ধর্মব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র দিয়ে তাদের পেটপূজা করার সুযোগ করে দিলে, এই অলস ও ঘৃণা ছড়ানো ধর্মব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে সভ্যতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার দায়ভার আপনার উপরও থাকবে।
মানসিক সুখ ও শান্তি পাবার জন্য অবসর সময়ে বিভিন্ন ভালোভালো বইপত্র পড়ুন; ব্যায়াম করুন; খেলাধুলা করুন; সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হোন; টিভি দেখুন; সংবাদপত্র পড়ুন; অনলাইনে
শিক্ষণীয় বা সুস্থ বিনোদনমূলক তথ্য দেখুন; ঘুরতে ও বেড়াতে বের হন; লেখালেখি করুন; বিভিন্ন মানুষের
সাথে যুক্তিনির্ভর আলোচনা বা গল্প করুন; পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণাধর্মী কাজ করুন; শিশু বা অন্য যারা কোনো বিষয়ে জানে না, তাদের পড়াশুনা শিখিয়ে অর্থাৎ সে বিষয়ে জানিয়ে আপনার মৃত্যুর পরে তাদের উন্নত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখুন (পৃথিবীর স্থান সীমিত হওয়ায়, মানুষ অমর হলে এই পৃথিবী হয়তো খুব দ্রুতই বসবাসের স্থান সংকটে পরিণত হয়ে বসবাস অযোগ্য হয়ে যাবে); এবং সবসময় রাষ্ট্রীয়
আইন মেনে চলুন। এক কথায় – হিংসা ও ঘৃণা প্রচারকারী, ধর্মীয় কুশিক্ষা বিস্তারকারী, ধর্মান্ধ, ধর্মব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাত, টাউট, বাটপার, দুর্নীতিগ্রস্ত, ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, রাষ্ট্রীয় আইন
অমান্যকারী হওয়া বাদে দেশ ও সমাজের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ করুন। সত্যিকারে যারা দরিদ্র ও নিরুপায়,
তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করুন। নিজে ধর্মান্ধ হয়ে সময় অপচয় করবেন না, বা অন্য কাউকে
ধর্মান্ধ হওয়ার জন্য সাহায্য-সহযোগিতা বা উদ্বুদ্ধ করবেন না।
কুরআনে ভুল আছে
অর্থাৎ,
তাহলে আপনি কি এভাবে ভাগ করে দিতে পারবেন? নাকি বলবেন যে, আমি
ভুলভাবে অংশগুলোর উল্লেখ করেছি।
এটা পৃথিবীর যেকোনো মানুষ বললে তা ভুল হিসাবে বিবেচিত হবে। কিন্তু
হুবহু একই ভুল হিসাব তাদের কাল্পনিক আল্লায় দিলে তা ধর্মান্ধদের কাছে সঠিক মনে হয়।
আপনি যদি কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ এবং ১২ পড়েন;
তাহলে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।
একজন মৃত মহিলার – যদি শুধু একটা কন্যা সন্তান জীবিত থাকে এবং অন্য কোনো সন্তান না থাকে, মৃত মহিলার বাবা জীবিত থাকে, মৃত মহিলার মা জীবিত থাকে এবং মৃত মহিলার স্বামী জীবিত থাকে; এক্ষেত্রে ঐ মৃত মহিলার পৃথিবীতে আর কোনো আত্মীয়-স্বজন যদি না থাকে তাহলে কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ এবং ১২ অনুযায়ী ঐ মৃত মহিলার :
অংশগুলোর যোগফল হয় :
কুরআনের ৪ নম্বর সুরা – নিসা, আয়াত ১১ তে লেখা আছে :
https://quran.com/bn/4?startingVerse=11
“তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য- যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে আর যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর এবং তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির সিকি অংশ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ- তোমাদের কৃত ওয়াসীয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা নারীর শুধু বৈপিত্রেয় একটি ভাই বা একটি ভগ্নি থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছ’ ভাগের এক ভাগ। যদি তারা তার চেয়ে অধিক হয়, তবে সকলেই তৃতীয়াংশে শরীক হবে কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে, যদি কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়, এ হল আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।”
https://quran.com/bn/4?startingVerse=12
অর্থাৎ, কুরআন অনুযায়ী অংশগুলোর যোগফল হয় :
কুরআনের এই ভুলটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে খলিফা উমরের শাসনামলে। মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ছিলেন ইবনে আব্বাস। এই ইবনে আব্বাস কুরআন সবচেয়ে ভালো বুঝতেন, তার মতো এত ভালো আর কেউ কুরআন বুঝতো না। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস ছিলেন কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসিরকারক (ব্যাখ্যাকারী)।
সহিহ বুখারী হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বর ৭২৭০
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=32110
এই ইবনে আব্বাস ধর্মব্যবসা অব্যাহত রাখার স্বার্থে কুরআনের কাল্পনিক আল্লাহর হিসাব বাতিল করে ঘোষণা দেয় যে – এক্ষেত্রে সবাইকে কুরআনে উল্লিখিত অংশ অনুযায়ী দিতে হবে, তবে শুধু মৃত ব্যক্তির কন্যাকে কুরআনে উল্লিখিত অংশ অনুযায়ী না দিয়ে সবাইকে দেয়ার পরে বাকি যা থাকবে তাই দিতে হবে কন্যাকে। অর্থাৎ, ইবনে আব্বাসের হিসাব অনুযায়ী ঐ মৃত মহিলার ১২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি থেকে তার:
ধর্মব্যবসায়ী জাকির নায়েকও কাল্পনিক আল্লাহর কুরআনের হিসাব ছুড়ে ফেলে
দিয়ে ইবনে আব্বাসের পদ্ধতিতে হিসাব মিলিয়েছে। জাকির নায়েক তার ভিডিও বক্তব্যের শেষের দিকে বলেছেন
https://www.youtube.com/watch?v=KoFtxAW-cUs
আবার আরেকদল ধর্মব্যবসায়ী ইবনে আব্বাস ও জাকির নায়েকের হিসাবকে
বাতিল করে দিয়ে ভিন্ন আরেক পদ্ধতিতে হিসাব মিলিয়েছে। ভিন্ন এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘আউল’
পদ্ধতি। আউল পদ্ধতি হলো কপি পেস্ট করার পদ্ধতি। অর্থাৎ, সবগুলো অংশ যোগ করার পরে যোগফলে
প্রাপ্ত উপরের সংখ্যাকে (লবকে) কপি করে নিচের (হরের) সব সংখ্যার জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে।
যেমন – পূর্বে আমরা অংশগুলোর যোগফল পেয়েছিলাম :
এখন আউল পদ্ধতিতে : অংশগুলোর যোগফলের উপরে প্রাপ্ত ১৩ কে কপি করে নিচের সব জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে।
যেমন, ধরুন – আমি বললাম যে, আমার মৃত্যুর পরে আমার ২০ লক্ষ টাকা থেকে আমার আত্মীয় :
এক্ষেত্রে গোঁজামিল কপি পেস্ট আউল পদ্ধতিতে হিসাব মেলাতে হবে।
নির্ধারিত অংশগুলোর যোগ করলে হয় :
এখন গোঁজামিল কপি পেস্ট আউল পদ্ধতিতে হিসাব মেলানোর জন্য উপরের ১১৫ কে কপি করে নিচের সব সংখ্যার জায়গায় পেস্ট করে দিতে হবে।
তাহলে, ধর্মব্যবসায়ীদের আউল পদ্ধতিতে আমার ঐ ২০ লক্ষ টাকা থেকে :
কিন্তু আমি চেয়েছিলাম :
সুপ্রাচীনকাল থেকে ধর্মব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য ধর্মব্যবসায়ীরা সকল প্রকার বাটপারি চেষ্টার ত্রুটি করে নাই।
মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস, যিনি হলেন কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসিরকারক (ব্যাখ্যাকারী), তিনি এই ধাপ্পাবাজির কপি পেস্ট আউল পদ্ধতি মানেন নাই। নিচের লিংকে দেখুন:
https://majalla.org/ilm/sunni-fiqh-on-awl/
তাহলে, মুসলিম ভাই ও বোনেরা – আপনারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যান।
ইবনে আব্বাস ও জাকির নায়েকের দলে; অথবা আউল পদ্ধতির দলে।
শুধরে দিচ্ছে মোল্লায় !!
কুরআন ও সহিহ হাদিসে লেখা
অসংখ্য অমানবিক, নোংরা ও ভুলের মধ্য থেকে প্রমাণসহ সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে কয়েকটি
তুলে ধরা হলো :
এবং
এবং
নিচের লিংকটি হলো উপরের লেখার লিংক। উপরের লেখা পড়ে ভালো লাগলে, লিংকটি কপি করে সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
ReplyDeletehttps://nusratmim456.blogspot.com/2026/06/blog-post.html
ধন্যবাদ।